আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ, রিট খারিজ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ, রিট খারিজ

অতিন বিশ্বাস: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে যে রিট করা হয় তা খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ এই মর্মে খারিজের আদেশ দেন।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রিটটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি অর্থাৎ ‘নট ইনফর্ম’ হওয়ায় তা উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়েছে। ফলে আদালত রিটের মূল দাবির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন এমনটি বলা হচ্ছে না।

এর আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন। রিটে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার জন্য রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদনও করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলীয় প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং সম্মেলনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

ওই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিটটি করা হয়। রিটের বিষয়টি সে সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী নিশ্চিত করেছিলেন।

রিট আবেদনে মূলত সরকারি প্রজ্ঞাপনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আবেদনকারী প্রজ্ঞাপন জারির বৈধতা বিচারিকভাবে পর্যালোচনার পাশাপাশি এর কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন।

তবে রোববারের আদেশে হাইকোর্ট রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বা বাতিল করার বিষয়ে আদালত সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এমন দাবি করা যাচ্ছে না। আদেশের ফলে প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করা ওই নির্দিষ্ট রিটের কার্যক্রম এখানেই শেষ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। দলটির কার্যক্রম নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। রোববারের হাইকোর্টের আদেশ সেই আইনি প্রক্রিয়ার একটি নতুন পর্যায় তৈরি করেছে।

আরো পড়ুন...

চট্টগ্রামে মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ: নিহত ৪
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত