ডেস্ক রিপোর্ট: হিরোশিমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালন।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হিরোশিমার পরমাণু বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালন করেছে জাপান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ১২৩টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সাথে হিরোশিমা শান্তি স্মারক পার্কে অনুষ্ঠিত বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। Deccan Chronicle
অনুষ্ঠানে পার্কের সেনোটাফের ভেতরে পরমাণু বোমা হামলার শিকারদের একটি তালিকা রাখা হয়, যাতে এখন ৩৫৩,৬৩৯ জনের নাম রয়েছে।
যার মধ্যে গত এক বছরে মারা যাওয়া এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে অর্থাৎ ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যে মুহূর্তে হিরোশিমায় বোমা ফেলা হয়েছিল, ঠিক সেই সময়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই বড় শক্তিগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখাকে ন্যায্যতা দেওয়া বন্ধ করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের অমানবিকতাকে খাটো করে দেখা এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শক্তি প্রয়োগকে মেনে নেওয়া প্রতিশোধমূলক সহিংসতার চক্র তৈরি করতে পারে।
যা বিশ্বকে শেষ পর্যন্ত আরেকটি হিরোশিমা বা নাগাসাকির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মাতসুই আরও বলেন, এখনও অনেক রাজনৈতিক নেতা পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বাস্তবসম্মত নীতি হিসেবে বিবেচনা করেন।
এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বকে আরও দূরে ঠেলে দেয়।
তিনি বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপ্রসারণ ও নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানান।
এই অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন হিবাকুশা (বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি) সম্প্রদায় ক্রমশ বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়ছে।
এই বছরের মার্চের শেষ নাগাদ, জাপানে প্রায় ৯১,০০০ হিবাকুশা জীবিত ছিলেন, যাদের গড় বয়স ৮৬ বছর।
তাদের সংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকায়, মাতসুই তরুণ প্রজন্মকে পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির লক্ষ্যে ব্যাপক ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই স্মরণ অনুষ্ঠানটি বৈশ্বিক পারমাণবিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া
এবং পারমাণবিক অপ্রসারণ চুক্তি (NPT) পর্যালোচনায় ব্যর্থতা।
দশকের পর দশক ধরে হিবাকুশাদের পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির পক্ষে আন্দোলন সত্ত্বেও, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্বেগ কেবল বেড়েই চলেছে।
হিরোশিমা হামলা

বোমা হামলাটি ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট একটি মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান থেকে "লিটল বয়" নামক বোমা ফেলার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল।
যাতে সেই বছরের শেষ নাগাদ বিস্ফোরণ, আগুন ও তেজস্ক্রিয়তার কারণে প্রায় ১,৪০,০০০ মানুষ মারা যান।
তিন দিন পর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বোমাটি ফেলা হয়, এবং ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করে, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













